আর্থিক সংকটে হল ফেস্ট হচ্ছে না হাবিপ্রবিতে

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:৩৮  
প্রতিবছর হল ফেস্ট করার কথা থাকলওে আর্থিক সঙ্কটের কারণে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীর বঞ্চিত হচ্ছে অনুষ্ঠানটি থেকে। ২০১৫ সালের পর মাত্র একবারই (২০১৮) হল প্রশাসন আয়োজন করতে পেরেছে অনুষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বৃহৎ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে না পারার কারণ হিসাবে ছেলে হলের হল সুপাররা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দায়ী করছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. মোঃ গোলাম রব্বানি বলেন, ছেলেদের প্রতিটি হলেই একই সমস্যা বিদ্যমান। প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী অনাবাসিক ফি প্রদান করে হল গুলোতে অবস্থান করছে। যার কারণে শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র অনাবাসিক ফি’র টাকা দিয়ে হল ফেস্টের মতো বৃহৎ অনুষ্ঠান করার মতো সামর্থ ছেলে হল গুলোর নেই। এছাড়া হলে যে সকল কর্মচারী কাজ করেন তাদের সম্মানী শিক্ষার্থীদের অনাবাসিক ফি’র টাকা থেকেই প্রদান করা হয়। পাশাপাশি হলের আনুষঙ্গিক সমস্যার সমাধান করতেই হিমশিম খেতে হয় আমাদের। বর্তমান অবস্থা এতটাই লাজুক যে শিক্ষার্থীদের এক কাপ চা খাওয়ানোর টাকা আমাদের হলের ফান্ডে নেই । এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের হল সুপার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহুবার নোটিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের অবগত করার চেষ্টা চালিয়েছি আবাসিক হয়ে যেতে। কিন্তু গুটিকয়েক শিক্ষার্থী বাদে বাকিরা অনাবাসিক ফি দিয়েই হলে অবস্থান করছে। যা শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার অবক্ষয় বলে মনে করি। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাবিপ্রবির শেখ রাসেল হল ও তাজ উদ্দিন আহমেদ হলেও একই সমস্যা বিরাজমান। কেবলমাত্র ছেলেদের ইন্টারন্যাশনাল হলের বিদেশি ১২৮ জন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ভাবে হলে অবস্থান করছে। এদিকে মেয়ে হল গুলোর প্রেক্ষাপট ছেলে হলের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের হল সুপার অধ্যাপক ডা. মোছা: আফরোজা খাতুন বলেন, “ আমার হলের সকল শিক্ষার্থী আবাসিক। কোনো শিক্ষার্থী হলে উঠার সাথে সাথে তাকে আবাসিক ফি প্রদান করতে হয়। যার কারণে ছেলেদের হলের মতো সংকট আমাদের হলে সৃষ্টি হয়নি। যদি কেন্দীয়ভাবে হল ফিস্ট হয় তবে আমাদের অনুষ্ঠান করতে কোনো সমস্যা নেই। এছাড়া কবি সুফিয়া কামাল, আইভি রহমান ও ইন্টারন্যাশনাল হলের হল সুপাররা কেন্দ্রীয়ভাবে হল ফেস্ট আয়োজন করতে সম্মতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় হল ফিস্টের আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কোনো ফান্ড নেই যা দিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে হল ফিস্ট করা সম্ভব। তবুও আমি বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য মহোদয়ের সাথে আলোচনা করবো। উল্লেখ্য যে, ছেলেদের আবাসিক হল গুলোর আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।